বিশ্বের ইতিহাসে হুগলী নদী
Publisher : Parabaas
নদীর ইতিহাস নয়, বরং কীভাবে হুগলির নদীতীর পর্তুগিজ, মুসলমান, ইংরেজ, ফরাসি আর দিনেমারদের বসতি স্থাপন করতে এবং সেইসঙ্গে তাদের বাণিজ্য, মৌলিক ধ্যানধারণা, সাহিত্য আর প্রযুক্তিকে আকৃষ্ট করেছে, তারই ইতিহাস। অসাধারণ, মনোজ্ঞ এক বৃত্তান্ত।
| Publisher | Parabaas |
| Binding | Hardbound |
| Language | Bengali |
ভারতের মহান এক নদীর রোমাঞ্চকর ইতিহাস—যা ছিল সমুদ্রপথে ঔপনিবেশিকদের বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার, বাংলার আর ভারতের প্রাক্তন রাজধানী কলকাতার জীবনদায়ী জলপথ গঙ্গার শাখানদী হুগলি (নামটি সম্ভবত পর্তুগিজ থেকে এসেছে) এখন ভারতের বাইরে স্বল্পই পরিচিত। অথচ বহু শতাব্দ ধরে বাস্তবিকই তার বিশ্বব্যাপী তাৎপর্য ছিল। ইয়োরোপ, এশিয়া আর দূরদূরান্ত থেকে বণিক, মিশনারি, ভাড়াটে সৈনিক, কূটনীতিবিদ, শ্রমিক ও অন্যান্যদের এ নদী আকৃষ্ট করেছিল। এই বইতে সেই জলপথকে বিশ্বের ইতিহাসের কেন্দ্রে পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ থেকে মুঘলরা এবং হুগলি, চুঁচুড়া, চন্দননগর ও শ্রীরামপুর থেকে যথাক্রমে পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ফরাসি ও দিনেমার ঔপনিবেশিকেরা একের পর এক হুগলি নদীকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। শেষপর্যন্ত এই নদীরই তীরে, কলকাতায়, ব্রিটিশরা তাদের সাম্রাজ্যের রাজধানী প্রতিষ্ঠা করে সারা ভারত শাসন করেছে। এদের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ রেখে লেখক দেখানোর চেষ্টা করেছেন কীভাবে পণ্য এবং চিন্তাভাবনার আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বের ইতিহাসের অঙ্গীভূত হয়ে উঠেছিল হুগলি—আর সেই ঘটনাবলির নাটকীয় পরিণাম। হুগলি নদীর গতিপথের সঙ্গে সঙ্গে তীরবর্তী জনপদের ইতিহাসের ধারা বিশেষ মনোযোগের সঙ্গে অনুসরণ করেছেন লেখক রবার্ট আইভারমি। আধুনিক ধনতন্ত্র ও কর্পোরেশনগুলির মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা, অভিবাসন, প্রকৃতির উপর নতুন প্রযুক্তি ও মানুষের কর্মকাণ্ডের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের মতো উদ্বেগের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেছেন। লেখক শেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে হুগলি নদীর ইতিহাস থেকে বিশ্বের এক ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতেরও অনেক কিছু শেখার আছে।
Book Review
There are no reviews yet.