দুঃস্বপ্ন | খালেদ চৌধুরী
Author : Khaled Choudhury
Publisher : Yuktakshar Prakashani-যুক্তাক্ষর প্রকাশনী
সম্পাদনা : প্রদীপ দত্ত
প্রচ্ছদ : প্রদীপ দত্ত
১৯৮৪ সালে রোগশয্যায় ঘুমের মধ্যে এবং জেগে থাকতেও দুঃস্বপ্নেরা নানান রূপে এসে ঘিরে ধরত খালেদ চৌধুরীকে। হাসপাতালের বেডে শুয়েই শিল্পী তাঁর ছবিতে রূপ দিয়েছেন সেই সব দুঃস্বপ্নকে। সেই ছবি এবং খালেদের দেওয়া ছবির ব্যাখ্যা নিয়ে প্রদীপ দত্ত সম্পাদিত খালেদ চৌধুরীর ‘দুঃস্বপ্ন’ বইটি সত্যিই সংগ্রহযোগ্য।
| Publisher | Yuktakshar Prakashani-যুক্তাক্ষর প্রকাশনী |
| ISBN | 978-93-6128-479-3 |
| Pages | 48 |
| Binding | Hardbound |
| Language | Bengali |
বলুন তো ঘুমের মধ্যে ভয় পেয়ে জেগে উঠেছেন কখনও? বা ঘুমের মধ্যে এমন কোন স্বপ্ন দেখেছেন যা আপনাকে প্রচন্ড ভয় পাইয়ে দিয়েছে? জেগে উঠে বুঝতে পারছেন না আপনি কোথায় আছেন।
স্বপ্ন দেখতে কার না ভাল লাগে। কিন্তু সেই স্বপ্ন যখন দুঃস্বপ্ন হয়ে যায় তখন এর থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য মন ছটফট করে। আবার একেক সময় এই দুঃস্বপ্ন আমাদের তাড়া করে বেড়ায়। এর ঘোর থেকে বেরোতে দেয় না। কী ভয়ঙ্কর না! কিন্তু কখনও কি ভেবেছেন এই দুঃস্বপ্নগুলো ঘুমের ঘোর কাটলে এঁকে ফেলা যায়? অবাক হচ্ছেন তো। ভাবছেন এও কী সম্ভব। না অবাক হবেন না কারণ ঠিক এই কান্ডটাই করেছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী ( মঞ্চশিল্পী, প্রচ্ছদশিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ, লোক সংগীত সংগ্রাহক, অলংকরণ শিল্পী ইত্যাদি আরও অনেক কিছু) খালেদ চৌধুরী। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যে অদ্ভুত অনুভূতি হয়েছিল খালেদের সেগুলোই তিনি এঁকে ফেলেছিলেন। ঘটনাটা হল খালেদ চৌধুরী একবার প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে এক নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন। সেইসময় সম্পূর্ণ চেতনা তাঁর ছিল না। আচ্ছন্ন অবস্থায় বেশ কিছুদিন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নার্সিংহোমে ছিলেন। তো ওই অবস্থায় অদ্ভুত অদ্ভুত এবং ভয়ানক সব দৃশ্য তাঁর চোখের সামনে ফুটে উঠত। ওঁকে যেন তাড়া করে বেড়াত দৃশ্যগুলো। অস্থির করে তুলত। তখন তাঁর নাকে অক্সিজেনের নল লাগানো, স্যালাইনের সূঁচ ফোটানো হাতে। একদিন বিশিষ্ট কবি রণজিৎ সিংহ খালেদের হাতে একটা স্কেচ খাতা আর পেন দিয়ে খাতায় লিখে দেন,
“ছবি এঁকে রোগ তাড়াবেন বলে খালেদদা কে”।
এই খাতাটিতেই স্যালাইন অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থায় খালেদ আঁকতে শুরু করলেন সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্যগুলি যেগুলো তাঁকে তাড়া করে বেড়াতো আধো ঘুম আধো জাগরণের অবস্থায়। এইভাবে কেউ ছবি আঁকতে পারে ভাবতেই পারি না। এই অসাধ্য সাধন করেছিলেন খালেদ। সেই স্কেচ খাতাটার আকার একইরকম রেখে ওই আঁকাগুলো নিয়ে যুক্তাক্ষর প্রকাশনী প্রকাশ করেছে একটি অসাধারণ বই ‘দুঃস্বপ্ন’। বইটি সম্পাদনা করেছেন খালেদ গবেষক এবং বহুবছর খালেদ সঙ্গ করা প্রদীপ দত্ত। সম্পাদকের কথায়,
“সেই খাতাটা আমি প্রথম দেখি ২০০৯ সালে। … কথাপ্রসঙ্গে একদিন সকালে ওই খাতাটার কথা উঠতেই খালেদদা ভেতরের ঘর থেকে এনে আমার হাতে তুলে দিলেন। পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে আমি যেন কী রকম একটা ভ্যাবলা হয়ে গেলাম।”
সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার পর ওই সময়ের অনুভবের কথা জানতে চাইলে খালেদ প্রদীপ দত্তকে জানান ছবিগুলোর ব্যাখ্যা। খালেদ চৌধুরীর কথাগুলি অবিকল একরকম রেখে ছবি এবং তার ব্যাখ্যা পাশাপাশি ছাপানো হয়েছে বইটিতে। অসাধারণ এক অনুভূতি হয় বইটি হাতে নিয়ে। ছবিগুলো দেখতে দেখতে কখনও গা শিরশির করে, কখনও মন চলে যায় অন্য কোন জগতে। কল্পনায় ভেসে ওঠে মৃত্যুর সময়ের মুহূর্ত। সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই।