পাতায় পাতায় উষারডিহি | মঞ্জিশ রায়
Author : Manjish Ray
Publisher : Yuktakshar Prakashani-যুক্তাক্ষর প্রকাশনী
বাঁকুড়ার উষারডিহি গ্রামে বেশ কিছুদিন কাটিয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করে এই বইটি লিখেছে মঞ্জিস রায়। মঞ্জিস লিখেছে, ” রাতের দিকে আমরা উষারডিহিতে গ্রামের পথে চলে গেলাম দশাই পরবের প্রস্তুতি দেখতে। দশাই পরব আসছে।” মঞ্জিসের কথায় ” এবার দশাই নাচতে বেরোবে সকলে। এ পরবে পুরুষরা মহিলাদের মতো পোশাক পরে। আফজলদাও বেরোবে। তাই শাড়ি জোগাড় করার কথা”।
আফজল দশাই পরব নিয়ে জানতে চায়।
” আফজলদা বলল, আচ্ছা দাদা আরেকটা জিনিস বলেন তো। সেটা হচ্ছে এই যে পরব, আজকে যেটা হবে কোথা থেকে আসল? বিশুদা বলল, আমরা যখন অসুর বংশের মতন ছিলম, মহিষাসুররা যখন সব মরা হারা খাইত, আমরাও সেইরকম মরা হারা খাইতম । দাদা জানতে চাইল, মরা হারা মানে কী? বিশু হাঁসদা বলল, মরাহারা মানে বুঝছ না ? ও যে গরু মরলে ভাগাড়ে নিয়ে আসে, ওগুলো আমরা খেয়ে নিতম। আর ওই ব্যাং, সাপ যা পেতম সব খেতম। আফজলদা বলল, তা আসলো কেমনে এই পুজোটা? বিশুদাদা বলে, পুজোটা হইল দেবতাদের লিল্যা, দেবতা বুঝিস তো? মহিষাসুর বধ হইল্য। বিজয়ার দিনে তো মহিষাসুর বধ হইছ্যে। তার উৎসবে আমরা সব গ্রামে গ্রামে নাচ গান করে ঘুরলম। ওটার প্রতিবাদে? জিজ্ঞাসা করল আফজলদা, কেন বধ করলা ওইটার প্রতিবাদে? বিশুদা বলল, ওটার বিরুদ্ধে। ওই যে পুরুষগুলোকে পেলে বধ করত। ওই জন্য আমরা সেদিন শাড়ি পরলম মহিলা হয়ে গেলম। শুনে আফজলদা যোগ করল, যাতে বধ করতে না পারে। বিশুদা বললে, মা দুর্গা নিজেও নারী তো । নারীকে বধ করবেক নাই। আমাদের ওই উৎসবে দেখবি সব ছেলেগুলা শাড়ি পরে আসবেক।
কতরকমের গল্প, কতরকমের আখ্যান কত জায়গায় চলে আসছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এটাই আমার মাটি, এটাই আমার দেশ।”
In stock
| Publisher | Yuktakshar Prakashani-যুক্তাক্ষর প্রকাশনী |
| ISBN | 978-93-340-8245-6 |
| Pages | 67 |
| Binding | Hardbound |
| Language | Bengali |
বাঁকুড়ার উষারডিহি গ্রামে বেশ কিছুদিন কাটিয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করে এই বইটি লিখেছে মঞ্জিস রায়। মঞ্জিস লিখেছে, ” রাতের দিকে আমরা উষারডিহিতে গ্রামের পথে চলে গেলাম দশাই পরবের প্রস্তুতি দেখতে। দশাই পরব আসছে।” মঞ্জিসের কথায় ” এবার দশাই নাচতে বেরোবে সকলে। এ পরবে পুরুষরা মহিলাদের মতো পোশাক পরে। আফজলদাও বেরোবে। তাই শাড়ি জোগাড় করার কথা”।
আফজল দশাই পরব নিয়ে জানতে চায়।
” আফজলদা বলল, আচ্ছা দাদা আরেকটা জিনিস বলেন তো। সেটা হচ্ছে এই যে পরব, আজকে যেটা হবে কোথা থেকে আসল? বিশুদা বলল, আমরা যখন অসুর বংশের মতন ছিলম, মহিষাসুররা যখন সব মরা হারা খাইত, আমরাও সেইরকম মরা হারা খাইতম । দাদা জানতে চাইল, মরা হারা মানে কী? বিশু হাঁসদা বলল, মরাহারা মানে বুঝছ না ? ও যে গরু মরলে ভাগাড়ে নিয়ে আসে, ওগুলো আমরা খেয়ে নিতম। আর ওই ব্যাং, সাপ যা পেতম সব খেতম। আফজলদা বলল, তা আসলো কেমনে এই পুজোটা? বিশুদাদা বলে, পুজোটা হইল দেবতাদের লিল্যা, দেবতা বুঝিস তো? মহিষাসুর বধ হইল্য। বিজয়ার দিনে তো মহিষাসুর বধ হইছ্যে। তার উৎসবে আমরা সব গ্রামে গ্রামে নাচ গান করে ঘুরলম। ওটার প্রতিবাদে? জিজ্ঞাসা করল আফজলদা, কেন বধ করলা ওইটার প্রতিবাদে? বিশুদা বলল, ওটার বিরুদ্ধে। ওই যে পুরুষগুলোকে পেলে বধ করত। ওই জন্য আমরা সেদিন শাড়ি পরলম মহিলা হয়ে গেলম। শুনে আফজলদা যোগ করল, যাতে বধ করতে না পারে। বিশুদা বললে, মা দুর্গা নিজেও নারী তো । নারীকে বধ করবেক নাই। আমাদের ওই উৎসবে দেখবি সব ছেলেগুলা শাড়ি পরে আসবেক।
কতরকমের গল্প, কতরকমের আখ্যান কত জায়গায় চলে আসছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এটাই আমার মাটি, এটাই আমার দেশ।”