• Earn reward point, redeem on your next purchase JOIN US NOW

বাংলার কৃষিকাজ ও কৃষিদেবতা

Author : Swpan Thakur - স্বপন ঠাকুর
Publisher : Khori - খড়ি প্রকাশনী
350.00

বোড়র বলরামের ব্যতিক্রমী গাজন উৎসব হয়।আদিতে ইনি ছিলেন কৃষিদেবতা।আষাঢ় মাসে রায়না থানার মেড়াল মুগরা গুনো আনগুনো সাঁকটিয়া বোগরা নতু ধামাস তিয়াণ্ডুল বালাগড় প্রভৃতি গ্রামের চাষিরা বলরামকে জলভোগ দেন এবং বাৎসরিক গাজনোৎসবে বলরামের ভক্ত হন।অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে বলরামের স্নানযাত্রা।এইসময়ে গ্রামের ব্রাহ্মণগণ বলরামকে গঙ্গাজলে সিক্ত করেন।মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে যায় অঙ্গরাগের জন্য।রায়না গ্রামের পলাসন গ্রামের সূত্রধরেরা বংশানুক্রমে বলরামের অঙ্গরাগ করেন।বুদ্ধপূর্ণিমার দিন শতাধিক বলরাম-সন্ন্যাসী সেবাইতদের উপস্থিতিতে বলরামের চক্ষুদান হয়।এর পর শুরু হয় মূল গাজনের উৎসব।একাদশীতে হয় কামান।দ্বাদশীতে বলরাম ভক্তরা হবিষ্যান্ন খান।ত্রয়োদশীতে ফলের গাজন। চতুর্দশীতে উপবাস।পূর্ণিমায় বলরামের মহাপুজো।পরের দিন পাটভাঙা অর্থাৎ একটি দশ ফুট উঁচু ঘরের ছাদ থেকে বল অনন্ত বাসুদেব বলে ক্রমান্বয়ে ঝাঁপ দেন ভক্তরা খড়ের গাদায়।ভক্তদের পাত্রভোজ খাওনোর পর গাজনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

Out of stock

Share:

 
Publisher Khori - খড়ি প্রকাশনী
Binding Paperback
Language Bengali

শিব শুধু কৃষক দেবতা নন, শ্রীকৃষ্ণের দাদা বলরামও একজন জনপ্রিয় কৃষক দেবতা।প্রাচীনকাল থেকে ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রদেশের মতো বাংলাদেশেও বলরামের পুজো হয়ে আসছে।মুর্শিদাবাদ জেলার গয়েসাপুর বাঁকুড়ার শব্রাকোন বীরভূমের মঙ্গলডিহি বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার সুদপুর বেড়া বড়পুরুলিয়া দাঁইহাট শীতলগ্রাম কালনা থানার বাঘনাপাড়া প্রভৃতি গ্রামের বলরাম রীতিমতো বিখ্যাত। রয়েছে বর্ধমানের রায়না থানার বোড়গ্রামের বলরাম। অন্যান্য স্থানে বলরাম বৈষ্ণব প্রভাবিত হলেও বোড়র বলরাম কৃষকদেবতা হিসাবে আজও পূজিত হচ্ছে ।
ভারতীয় দেব পরিকল্পনায় অদ্ভুত এই বলরাম।তিনি অমিতশক্তিধর ,মদ্যপায়ী ভ্রাতৃপ্রেমিক পত্নিনিষ্ঠ রেবতীরমন।যেন আদি মহাকাব্যের যথার্থ নায়ক চরিত্র।বহু নামে তিনি ভূষিত।বলভদ্র সঙ্কর্ষণ মুষলধর শ্রীঅনন্ত হলধর বলদেব।তবে তাঁর কৃষকসত্তার প্রকৃত পরিচয় ফুটে উঠেছে দুটি নামে যথা হলধর ও মুষলধর।দুটি কৃষি যন্ত্র ;লাঙল ও মুগুর তাঁর আয়ুধ।একটি দিয়ে ভূমি কর্ষণ করা অন্যটি পাকা ফসল পিটানো ছাড়া ও মাটি ভাঙা হয়।আবার তিনি শেষনাগ বা অনন্তনাগ রূপে পূজিত হন।কৃষ্ণলীলার মুখ্য সহায়ক বলরাম।আদি বৈষ্ণবধর্মের পাঞ্চরাত্র মতবাদে ,প্রাচীন লেখমালায় তাঁর প্রভাব অপ্রতিহত।ঐতিহাসিকদের মতে খ্রিঃপূঃ পঞ্চম শতাব্দীর পূর্বেই বলরামের পুজো শুরু হয়েছিল।বাংলাদেশে ষোড়শ শতাব্দী থেকে নিত্যানন্দীপন্থী গৃহী বৈষ্ণবরা বলরামের বিগ্রহ স্থাপনা করে কুলদেবতা রূপে পুজো শুরু করেন।তবে বোড়র বলরাম সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ঘরানার।
বোড়র বলরামের উল্লেখ রয়েছে মালাধর বসুর শ্রীকৃষ্ণবিজয়কাব্য মানিকরামের ধর্মমঙ্গলকাব্যে এছাড়া বিবিধ মঙ্গলকাব্যের দিগবন্দনা পালায়।বোড় গ্রামের মধ্যস্থলে প্রায় ১৬ ফুট সুউচ্চ প্রাঙ্গণে ৪৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট বলরামের পীড়া শ্রেণীর দেউল।প্রবেশপথের তোরণটি দোচালা রীতির।মাথায় ঐতিহ্যবাহী ঘড়িঘর।মূল মন্দিরের পাশে জনৈক বলরাম সাধকের রত্নমন্দির।সেবাইত বুদ্ধদেব ব্যানার্জি জানালেন যে প্রাচীনকালে বোড়গ্রামের মধ্য দিয়ে বহে যেত দামোদর নদ।বলরামকে কেন্দ্র করে নদীর প্রশস্ত চরায় একদা তিনটি গ্রামের পত্তন হয়েছিল যোত বলরাম অনন্ত বলরাম ও গ্রামবলরাম।এই তিনটি গ্রাম একত্রিত হয়ে বড় বলরাম যা বিকৃত উচ্চারণে বোড় বলরামে পরিণত হয়েছে।পাশেই দক্ষিণকুল গ্রামে বাসুদেবদহ থেকে নিমকাঠ উত্থিত হলে স্বপ্নাদেশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন ব্যানার্জি পরিবারের পূর্বপুরুষ।তিনি বলরামের দারুবিগ্রহ নির্মাণ করে নিত্য পুজোর ব্যবস্থা করেছিলেন।পরবর্তীকালে বর্ধমানের রাজারা বিগ্রহ সেবার জন্য ৩৬৫ বিঘা ভূসম্পত্তি প্রদান করে সেবার সুবন্দোবস্ত করেন।
১৪ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট শ্বেতবর্ণের এই দারু বিগ্রহের ১৪টি হাত খিলানের সাহায্যে যুক্ত।শঙ্খ চক্র গদা লাঙল ডুগডুগি তার আয়ুধাবলী।মাথায় ত্রয়োদশ নাগের নাগছত্র।দেহের নিম্নাংশ প্রকৃতি স্বরূপা।উপরে রয়েছে চালচিত্র।তাতে জগন্নাথ সুভদ্রা প্রভৃতি অঙ্কিত হয়েছে।ভয়ঙ্কর তাঁর ত্রিলোচন।গালে হাল্কা দাড়ি।পুরুষ্ট গোঁফ।মাথায় জটা ও পাগড়ি।সামনের দুটি দাঁত অর্ধবিনির্গত।দুটি কাঁধে গড়ুর শোভিত।মূর্তিতত্ত্বের বিচারে এগুলিকে হয়তো লোকেশ্বর বিষ্ণু বলা হয়।পাশে রয়েছে দা্মোদর নারায়ণশিলা।রেবতী নেই,তবে উদ্দেশ্য করে পূজা হয়।বলরামের নিত্য সেবা হয়। সাত সের আতপ চালের অন্ন ব্যঞ্জন আর পরমান্ন লাগে দৈনিক।সন্ধ্যায় খোল বাজিয়ে হয় আরতি।বলরামের উদ্দেশ্যে পরিবেশিত হয় প্রাচীন বলরামগীতি।বৈষ্ণব উৎসবগুলির পাশাপাশি পৌষসংক্রান্তিতে হয় রাজকীয় বাহান্ন ভোগের পদাবলী আর সাতসের চালের তিনটি বড় পিঠে।পাচক ব্রাহ্মণ শুধুমাত্র ডানহাতে এই পিঠে বানান।পুজোর পর এই তিনটি পিঠে বিশেষ ভোগ হিসাবে বর্ধমান রাজবাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।এখন সেগুলি জলে বিসর্জন দেওয়া হয়।মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথি থেকে দেউলপ্রাঙ্গণে পনেরো দিন ধরে জমজমাট মেলা বসে।
বোড়র বলরামের ব্যতিক্রমী গাজন উৎসব হয়।আদিতে ইনি ছিলেন কৃষিদেবতা।আষাঢ় মাসে রায়না থানার মেড়াল মুগরা গুনো আনগুনো সাঁকটিয়া বোগরা নতু ধামাস তিয়াণ্ডুল বালাগড় প্রভৃতি গ্রামের চাষিরা বলরামকে জলভোগ দেন এবং বাৎসরিক গাজনোৎসবে বলরামের ভক্ত হন।অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে বলরামের স্নানযাত্রা।এইসময়ে গ্রামের ব্রাহ্মণগণ বলরামকে গঙ্গাজলে সিক্ত করেন।মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে যায় অঙ্গরাগের জন্য।রায়না গ্রামের পলাসন গ্রামের সূত্রধরেরা বংশানুক্রমে বলরামের অঙ্গরাগ করেন।বুদ্ধপূর্ণিমার দিন শতাধিক বলরাম-সন্ন্যাসী সেবাইতদের উপস্থিতিতে বলরামের চক্ষুদান হয়।এর পর শুরু হয় মূল গাজনের উৎসব।একাদশীতে হয় কামান।দ্বাদশীতে বলরাম ভক্তরা হবিষ্যান্ন খান।ত্রয়োদশীতে ফলের গাজন। চতুর্দশীতে উপবাস।পূর্ণিমায় বলরামের মহাপুজো।পরের দিন পাটভাঙা অর্থাৎ একটি দশ ফুট উঁচু ঘরের ছাদ থেকে বল অনন্ত বাসুদেব বলে ক্রমান্বয়ে ঝাঁপ দেন ভক্তরা খড়ের গাদায়।ভক্তদের পাত্রভোজ খাওনোর পর গাজনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

Book Review

Be the first to review “বাংলার কৃষিকাজ ও কৃষিদেবতা”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

There are no reviews yet.